Saturday, October 21, 2017

যশোরে পূজা দেখতে গিয়ে খুন হলেন পার্বতী
স্টাফ রিপোর্টার: শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলায় পতেঙ্গালী-মালঞ্চি গ্রামের মধ্যবর্তী রাস্তার ওপর থেকে ওই গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত পার্বতী রায় যশোরের মণিরামপুরের শ্যামকুড় গ্রামের অধীর রায়ের মেয়ে। তার মা যমুনা রায় শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করেন। তার বাবা-মা বর্তমানে যশোর শহরের আরএন রোড এলাকায় নতুন বাজারের পেছনে মতিয়ারের বাড়ির ভাড়াটিয়া।

নিহতের বাবা অধীর রায় জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিরব ওরফে রাব্বি দীপাবলিতে পুজো দেখার কথা বলে তার মেয়েকে নিয়ে যান।

তিনি বলেন, শুক্রবার দুপুরে পুলিশ খবর দিলে মর্গে গিয়ে মেয়ের লাশ দেখেছি। পার্বতীর ৭ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। তার স্বামী মহিতোষ ভারতে থাকায় আমাদের সাথে থাকতেন।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নিরব পালাতক রয়েছে। নিরব ওরফে রাব্বি যশোর সদরের মাজদিয়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

যশোর কোতোয়ালি থানার এসআই মোকলেসুজ্জামান জানান, দুপুরে খবর পেয়ে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এর পর অধীর রায় ও যমুনা রায় হাসপাতালে এসে লাশটি তাদের মেয়ে পার্বতী বলে নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, যুবক নিরবকে খুঁজছে পুলিশ। তাকে পেলে হত্যার মূল রহস্য জানা যাবে। তবে তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে কিনা সেটা ডাক্তারের রিপোর্টের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মনিরামপুরে আদালতের আদেশ অমান্য করে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীর বিয়ে
মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : বাল্য বিয়ে বন্ধের পর একটি চক্রের প্ররচনায় মনিরামপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের আদেশ অমান্য করেছেন সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া সেই ছাত্রীকে বিয়ে দেয়া হয়েছে। বাল্য বিয়ে বন্ধের সময় মেয়ের উপযুক্ত বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দিবো না বলে ভ্রাম্যমান আদালতকে লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়েছিলো মেয়ের পিতা।
কিন্তু সপ্তাহ পার না হতেই অন্য উপজেলায় নিয়ে ওই শিশু কন্যাকে বিয়ে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকার শিক্ষিত সমাজসহ স্থানীয়রা আদালতের আদেশ অমান্য কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী তুলেছেন।
জানাযায়, উপজেলার টুনিয়াঘরা মহিলা আলিম মাদ্রাসার ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী টুরিয়াঘরা গ্রামের আলতাফ বিশ্বাসের কন্যা জান্নাতুল ফেরদৌসকে বিয়ে দিতে যখন সবকিছু ঠিক-ঠাক তখন গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চলে ওই গ্রামে। এ সময় আদালতের বিচারক মণিরামপুরের সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ ওই বাল্য বিয়ে বন্ধের নির্দেশ দেন। পুলিশের উপস্থিতির খবর পেয়ে ওইদিন কথিত এক বিয়ে রেজিষ্ট্রি কাজী এবং বর পক্ষ পালিয়ে যায়। এরপর মাদ্রাসা ছাত্রীর পিতা আলতাফ বিশ্বাস আদালতের বিচারকের নিকট লিখিত অঙ্গীকার নামা দিয়ে বলেন, কন্যার প্রাপ্ত বয়স না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিবাহ দিবো না। উক্ত অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষর করেন ছাত্রীর মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম, প্রভাষক নূরুল হক, কলেজ শিক্ষক হয়রত আলীসহ স্থানীয় অনেকেই।
এদিকে আদালতের আদেশ এক সপ্তাহ পার না হতেই স্থানীয় আব্দুল হামিদসহ একটি চক্রের মাধ্যমে ছাত্রীর অভিভাবকরা গত রবিবার ওই মাদ্রাসা ছাত্রীকে যশোর সদর উপজেলার অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে সেই পাত্রের সাথে বিয়ে সম্পন্ন করে। আদালতের আদেশ অমান্য করে ৭ম শ্রেনীর ছাত্রীকে বিয়ে দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই ছাত্রীর মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মোড়ল, শিক্ষক নূরুল হক ও স্থানীয় ইউপি মেম্বর রেজাউল ইসলাম। এ ঘটনায় এলাকার শিক্ষিত সমাজসহ স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দাবী উঠেছে আদালতের আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের।