Saturday, October 21, 2017

মনিরামপুরে আদালতের আদেশ অমান্য করে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীর বিয়ে

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : বাল্য বিয়ে বন্ধের পর একটি চক্রের প্ররচনায় মনিরামপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের আদেশ অমান্য করেছেন সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া সেই ছাত্রীকে বিয়ে দেয়া হয়েছে। বাল্য বিয়ে বন্ধের সময় মেয়ের উপযুক্ত বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ দিবো না বলে ভ্রাম্যমান আদালতকে লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়েছিলো মেয়ের পিতা।
কিন্তু সপ্তাহ পার না হতেই অন্য উপজেলায় নিয়ে ওই শিশু কন্যাকে বিয়ে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকার শিক্ষিত সমাজসহ স্থানীয়রা আদালতের আদেশ অমান্য কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী তুলেছেন।
জানাযায়, উপজেলার টুনিয়াঘরা মহিলা আলিম মাদ্রাসার ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী টুরিয়াঘরা গ্রামের আলতাফ বিশ্বাসের কন্যা জান্নাতুল ফেরদৌসকে বিয়ে দিতে যখন সবকিছু ঠিক-ঠাক তখন গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চলে ওই গ্রামে। এ সময় আদালতের বিচারক মণিরামপুরের সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ ওই বাল্য বিয়ে বন্ধের নির্দেশ দেন। পুলিশের উপস্থিতির খবর পেয়ে ওইদিন কথিত এক বিয়ে রেজিষ্ট্রি কাজী এবং বর পক্ষ পালিয়ে যায়। এরপর মাদ্রাসা ছাত্রীর পিতা আলতাফ বিশ্বাস আদালতের বিচারকের নিকট লিখিত অঙ্গীকার নামা দিয়ে বলেন, কন্যার প্রাপ্ত বয়স না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিবাহ দিবো না। উক্ত অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষর করেন ছাত্রীর মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম, প্রভাষক নূরুল হক, কলেজ শিক্ষক হয়রত আলীসহ স্থানীয় অনেকেই।
এদিকে আদালতের আদেশ এক সপ্তাহ পার না হতেই স্থানীয় আব্দুল হামিদসহ একটি চক্রের মাধ্যমে ছাত্রীর অভিভাবকরা গত রবিবার ওই মাদ্রাসা ছাত্রীকে যশোর সদর উপজেলার অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে সেই পাত্রের সাথে বিয়ে সম্পন্ন করে। আদালতের আদেশ অমান্য করে ৭ম শ্রেনীর ছাত্রীকে বিয়ে দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই ছাত্রীর মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মোড়ল, শিক্ষক নূরুল হক ও স্থানীয় ইউপি মেম্বর রেজাউল ইসলাম। এ ঘটনায় এলাকার শিক্ষিত সমাজসহ স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দাবী উঠেছে আদালতের আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের।

0 comments: