Friday, May 19, 2017

আমি নেতা নই জনগণের সেবক হতে চাই- টিপু সুলতান
মণিরামপুর কণ্ঠ ডেক্স।।

মণিরামপুরের গণমানুষের নেতা, বারবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতান বলেছেন, ‘আমি নেতা হতে চাই না, আমি জনগণের সেবক হতে চাই। জনগণের সেবা করার জন্যই আমার জন্ম হয়েছে। আমি জনগণের সেবা করতে চাই। কাউকে কষ্ট দিতে চাই না। যারা আমার ক্ষতি করে, যারা অমানুষ তাদের মনুষত্ব শেখানোর জন্যই আল্লাহ আমাকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন।’ গতকাল শুক্রবার বিকেলে যশোরের মণিরামপুর পৌরশভা চত্বরে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
টিপু সুলতান বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিতে মণিরামপুরে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা আমি নেত্রীকে লিখিত আকারে জানিয়েছিলাম। নেত্রী আমাকে কথা দিয়েছেন, মণিরামপুরের মানুষ যতদিন আমাকে চায়, আমি যতদিন বেঁচে থাকি ততদিন তিনি আমাকে মনোনয়ন দেবেন। আমাকে সেই লক্ষে কাজ করে যেতে পরামর্শ দিয়ে হয়েছে। তিনি বলেন, নেত্রী আমাকে যশোর সদরে মনোনয়ন দিতে চেয়েছিলেন। আমি বলেছিলাম, মণিরামপুরবাসীকে আমি কথা দিয়েছি, সখে-দুঃখে তাদের পাশে থাকব।’ পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক এই সাংসদ আরো বলেন, ‘মণিরামপুরের মানুষ শান্তিতে নেই, তারা কষ্টে আছে। তাদেরকে বিভিন্নভাবে সন্ত্রাস চাঁদাবাজরা কষ্ট দিচ্ছে। মণিরামপুরের মানুষ আমাকে সব কথা জানিয়েছে।’ প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা জনগণকে কষ্ট দেওয়া এসব এমপি, চেয়ারম্যানদের বেআইনি হুকুম তামিল করবেন না। যদি করেন তাহলে একদিন জনগণের কাছে আপনাদের জবাব দিতে হবে। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত নেতাকর্মীদের পদচারনায় এসময় পৌরসভা চত্বর কানায় কানায় ভরে ওঠে।
এর আগে শুক্রবার দিনব্যাপী মণিরামপুর পৌরভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে গণসংযোগ করেন সাবেক এই সাংসদ।
পৌর কমিশনার গৌর কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে ও প্রভাষক মামুনুর রশিদ জুয়েলের পরিচালনায় পথসভায় বক্তব্য রাখেন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিকাইল হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদ আলী, আদম আলী, মোস্তফা কামাল, জামাল উদ্দীন, আমেনা বেগম, ছাত্রনেতা নিশাত কামাল, এসএম রবিউল ইসলাম প্রমুখ। এছাড়া পৌর কাউন্সিলর বাবুল করিম, ইউপি সদস্য সঞ্জয় রাহা, ইসমাইল হোসেন, হারুন-অর-রশিদ, ইসহাক আলী, দেবাশীষ মাষ্টার, কোমল ম-ল প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পথসভা শেষে একটি মিছিল পৌর শহর প্রদক্ষিণ করে।

Thursday, May 4, 2017

কে হচ্ছেন মনিরামপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক
মনিরামপুর কণ্ঠ ডেক্স।।

মনিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদকের শুন্য পদটি পুরনের জন্য দীর্ঘদিন পর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। আর এ পদটি পেতে সংগঠনের তৃনমুল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে ধর্না দেয়া শুরু করেছেন অনেক নেতা। অবশ্য এ ব্যাপারে আগামি ৮ মে ঢাকায় আ’লীগের সাধারন সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় হবার কথা রয়েছে। ফলে উপজেলা আ’লীগের সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে আট নেতা এখন কেন্দ্রীয় নেতাসহ বিভিন্ন স্থানে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। এমনটি জানা গেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাদের সাথে কথা বলে। অবশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্রে জানাযায়, বিগত ২০১৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় মনিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় কমিটির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপিসহ জেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কাউন্সিল অধিবেশনে উপজেলা আওয়ামী লীগের গঠিত কমিটির শুধুমাত্র দু’টি পদে অধ্যক্ষ কাজী মাহমুদুল হাসানকে সভাপতি এবং গোলাম মোস্তফাকে সাধারন সম্পাদক হিসেবে ঘোষনা করা হয়। পরের বছর ২০১৫ সালের ৬ ডিসেম্বর মৃত্যু হয় সাধারন সম্পাদক গোলাম মোস্তফার। গোলাম মোস্তফার মৃত্যুর পর থেকে অধ্যাবধি পর্যন্ত সাধারন সম্পাদকের পদটি রয়েছে শুন্য। ফলে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে এখন রয়েছেন শুধুমাত্র সভাপতি। এক সদস্যের কমিটির নেতৃত্বে দলটির কার্যক্রম বর্তমান চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। তার ওপর দলের ভেতরেও চলছে বহুমুখি গ্রুপিং। ফলে আওয়ামী লীগের মধ্যে বর্তমান হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে। সম্প্রতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক অধিকাংশ নেতৃবৃন্দ পুনরায় রিকাউন্সিলের মাধ্যমে পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর লিখিত আবেদন করেন। আর এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়।
একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানাগেছে মনিরামপুরে এ সংগঠনটির প্রানচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয়ভাবে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। তারই ফলশ্রুতিতে আগামি ৮ মে ঢাকায় দলটির সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে মনিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়ের কথা রয়েছে। ওই মতবিনিময় সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদকের শুন্য পদটি পুরনসহ পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনের একটি নির্দেশনা দেয়া হতে পারে বলে একাধিক নেতা জানিয়েছেন। ফলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদকের পদটি পাবার জন্য প্রায় ডজন খানেক নেতা তৃনমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের সরনাপন্ন হচ্ছেন বলে জানাগেছে। দলটির নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ করে জানাগেছে ইতিমধ্যে সাধারন সম্পাদক হতে মাঠে ময়দানে চষে বেড়াচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু। অবশ্য তার বর্নাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার রয়েছে সেই ছাত্র রাজনীতি থেকে। একই প্রত্যাশায় প্রয়াত সাধারন সম্পাদক গোলাম মোস্তফার ছোট ছেলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা প্রভাষক ফারুক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নেতাকর্মীদের সাথে মিশে রয়েছেন। পিতার পদটি পাবার জন্যে। অবশ্য গোলাম মোস্তফার মৃত্যুর পর ফারুকের প্রতি দলের নেতাকর্মীদের বেশ উদারতা লক্ষ্যণীয়। অন্যদিকে আর এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিকাইল হোসেনও জনসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন সাধারন সম্পাদক হবার জন্য। তারও বর্নাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার রয়েছে। এ ছাড়া সাধারন সম্পাদক হতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন পর পর দুই বার নির্বাচিত উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা যুব মহিলা লীগের সহসভাপতি নাজমা খানম, উপজেলা আ’লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক গাউসুল মোস্তাক, আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাশেম আলী, ভোজগাতী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক। এ ব্যাপারে উপজেলা আ’লীগের বর্তমান সভাপতি পৌর মেয়র অধ্যক্ষ কাজী মাহমুদুল হাসান বলেন, আগামি ৮ মে ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় হওয়ার কথা রয়েছে। আশা করা হচ্ছে ওই মতবিনিময় থেকে সব সমস্যা সমাধান হবে।
মনিরামপুরের হাদিউজ্জামান ফয়সাল মধুসূদন ডিবেট ফেডারেশনের সভাপতি নির্বাচিত
মণিরামপুর কণ্ঠ ডেক্স।।

বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ বিতর্ক  সংগঠন(২০১৬), দক্ষিণবঙ্গের একমাত্র  বিতর্ক সংগঠন  মাইকেল মধুসূদন ডিবেট ফেডারেশনেরর (M M D F) এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মনিরামপুরের কৃতি সন্তান মোঃ হাদিউজ্জামান ফয়সাল। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হাসানুল বারী, (অবঃ) প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা এর একমাত্র পুত্র এবং সরকারি এম এম কলেজের গনিত বিভাগের মেধাবি ছাত্র।

তিনি মনিরামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য ও খেদাপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক হিসেবে দ্বায়িত্বরত আছেন।

দীর্ঘ দিন ধরে তিনি বিতর্কের সঙ্গে জড়িত আছেন। মাইকেল মধুসূদন ডিবেট ফেডারেশনে ২০০৯ সাল থেকে  বিতর্ক নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গৌরবের সাথে কাজ করে চলেছেন। ইতিমধ্যে প্রায় ৭২ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৬৫০০ বিতর্ক প্রেমিক ছাত্র -ছাত্রীদের মধ্যে বিতর্ক শিল্পের বীজ বপন করে দিয়েছেন। শুধু যশোর নয় সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, খুলনা সহ বিভিন্ন জেলায় যুক্তিবাদী একজন তার্কিক যোদ্ধা হিসাবে শিক্ষার্থীদের পরিনত করার জন্য নিরন্তর কাজ করে চলেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে মাননীয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এর হাত থেকে তিনি শ্রেষ্ঠ বিতর্ক সংগঠনের স্বীকৃতিস্বরুপ পুরষ্কার লাভ করেন। ইতিমধ্যে এই সংগঠনের জাতীয় পর্যায়ের বিতার্কিক প্রতিযোগীতায় অনেক বার দেশ সেরা, বিভাগ চ্যাম্পিয়ন, একক শ্রেষ্ঠ বক্তা, বিভিন্ন ভার্সিটি চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপ, বিটিভি সেমিফাইনালিস্ট সহ বহু প্রতিযোগীতায় সাফল্যেরর ধারা অব্যহত রেখে চলেছেন। তার স্বপ দক্ষিন বঙ্গের একমাত্র বিতর্ক সংগঠন মাইকেল মধুসূদন ডিবেট ফেডারেশন বির্তকের  জন্য একদিন বাংলাদেশে বিখ্যাত হবে।
এছাড়াও ছাত্রলীগের এই নেতা মাইকেল মধুসুদন ডিবেট ফেডারেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সজিব কুশারী, মনিরামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মোঃ মুরাদুজ্জামান মুরাদ, যুগ্ম-আহবায়ক ফজলুর রহমান, রোহিতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক মোঃ সোহাগ হোসেন সহ উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।

Sunday, April 2, 2017

মাস্টার্স শেষ বর্ষের পরীক্ষা আগামী ১৭ই এপ্রিল শুরু
মণিরামপুর কণ্ঠ ডেক্স।।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স শেষ পর্ব পরীক্ষা আগামী ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হবে। পরীক্ষার পরিবর্তিত সময়সূচি অনুযায়ী এ পরীক্ষা ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১৩ জুন শেষ হবে। আগামী ১৭ এপ্রিল থেকে ২৪ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় পরীক্ষাসমূহ প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে শুরু হবে এবং পবিত্র রমজান মাসে ২৭ মে থেকে ১৩ জুন তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পরীক্ষাসমূহ প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে।

Tuesday, March 28, 2017

ছাত্রলীগ নেতার মায়ের মৃত্যুতে রোহিতা ছাত্রলীগের দোআ মাহফিল
মণিরামপুর কণ্ঠ ডেক্স।।

মনিরামপুরে রোহিতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ে আজ বিকাল ৫টায় মনিরামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য ও রোহিতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক মোঃ সোহাগ হোসেন এর সভাপতিত্বে ইউনিয়ন ছাত্রলীগনেতা শফিকুল ইসলাম এর মায়ের মৃত্যুতে আলোচনা সভা ও দোআ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত আলোচনা সভা ও দোআ মাহফিলে প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোহিতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী বিশ্বাস, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক আশরাফুল আলম, বিশেষ অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি অধীর মন্ডল, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাজী ইনদাদুল হক, ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক শেখ মোহর আলী, ইউপি সদস্য মনিরুল ইসলাম,উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম-সাঃ সম্পাদক মনিরুজ্জামান লালটু, ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি রমজান আলী এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য আশরাফুল আলম, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহবায়ক আবু সাঈদ পলাশ, নাজমুল হাসান নয়ন, ছাত্রলীগনেতা মেহেদী হাসান, শফিকুল ইসলাম,জাহিদ হাসান জনি, ইসরাফিল হোসেন সহ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ছাত্রলীগের নেত্রীবৃন্দ।

Wednesday, March 15, 2017

যশোর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের আবেদনপত্র আহ্বান
মণিরামপুর কণ্ঠ ডেক্স।।

স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা এমপি বরাবর যশোর জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের আগামীকাল ১৬ মার্চ ২০১৭ বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টার মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মাননীয় সভাপতি দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা এমপি’র ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে (বাড়ি-৫১/এ, সড়ক-৩/এ, ধানমন্ডি আ/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা) আবেদপত্র জমা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো যাচ্ছে।

তারিখ: ১৫ মার্চ ২০১৭

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Tuesday, March 14, 2017

Monday, March 6, 2017

জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের মায়ের ইন্তেকাল
শোক সংবাদঃ

যশোর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জননেতা শাহীন চাকলাদারের আম্মা ভোর আনুমানিক ০৬:৪৫ মিনিটে ঢাকা আনোয়ারা খান হাসপাতালে মৃত্যুবরন করেছেন। (ইন্নাহ- লিল্লাহে....রাজেউন....)।

বিস্তারিত পরবর্তীতে---------------

Sunday, February 12, 2017

আমি একজন পলিটিশিয়ান, ছাত্রনেত্রী
মাসুমা আক্তার পলি

আমার সাথে কিছুদিন আগে এক অফিসার এর সাথে পরিচয় হলে, যখন আমি বললাম আমি একজন পলিটিশিয়ান...ছাত্রনেত্রী। তখন সে এমনভাবে নাক-মুখ-চোখ কুচকাল যেন আমি একজন ভয়ংকর ক্রিমিনাল, চরিত্রহীন, লম্পট, খারাপ লোক। সে যেহেতু ভদ্রলোক, তাই মুখের উপর ভদ্রতা বশত কোন খারাপ মন্তব্য করল না, মনে মনে আমার চৌদ্দ গুষ্ঠি ধুয়ে দিল।

মুচকি হেসে শুধু বলল ভালই তো আছেন, আয় ইনকাম তো ভালই কি বলেন?

ইনকাম কিসের বলতেই ভদ্রলোক বললেন অমন সবাই বলে আবার সুযোগ পেলে কে না সুবিধা নেয়? ব্যাপার না। তারপর শুরু করল ওমুক নেতা এত খারাপ, মন্ত্রী-এমপিরা এত খারাপ।

তখন আমি তাকে বললাম আপনার কাছে ডাক্তাররা কেমন?
সাক্ষাৎ কষাই মিয়া, একেবারে ডাকাত।

পুলিশদের কেমন লাগে?
ফেরেপবাজ, চামার। পুলিশে ছুলে তার আর রক্ষা নাই।

আমলা?
ঘুষখোর, চোগলখোর, দূর্নীতিবাজ।

সাংবাদিক?
মিথ্যাচারী, লম্পট, বদমাশ, হলুদ সাংবাদিকে দেশটা ভরেে গেছে।

শিক্ষক?
চাঁদাবাজ, কোচিংবাজ। সবাই খারাপ বুঝলেন, সমাজটা এক্কেবারে পচে গেছে।

আমি বললাম ও আচ্ছা।

তো ভদ্রলোক কিছুদিন পরেই ফোন করে বললেন আপা আপনার কলেজে আমার ভাগনিকে ভর্তি করে দিতে পারবেন কি? টাকা পয়সা কোন ব্যাপার না।

আমি বললাম জননেত্রী শেখ হাসিনার এই দেশে ভর্তি বাণিজ্য চলে না। এই প্রথম বলল তা অবশ্য ঠিক বলছেন।

আসলে আমাদের চারপাশে এমন ভণ্ড লোকই বেশি।

আমাদের মন-মানসিকতা কেমন, সেটা বুঝা যায় আমরা নিয়মিত কোন বিষয় গুলো চর্চা করি সেটার উপর। গীবত করে আমরা বড়ই আনন্দিত হই। হয়তো নির্দিষ্ট কারও আচরণ আপনার কাছে খারাপ লেগেছে, তাকে পছন্দ নাই করতে পারেন। এটা হতেই পারে। জগতের সবাই নিশ্চয় সবাইকে পছন্দ করবে না। তা বলে ঢালাও ভাবে সবার চরিত্র হননে আপনি উঠে পড়ে লাগবেন। কোনো সভ্য সমাজে এই ধরনের প্র্যাকটিস গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

আমরা আসলে কারো ভালো দেখতে পারি না। কেউ একটু বড় হয়ে গেলে, একটু ভালো কিছু করলে আমাদের গায়ে লাগে। কিভাবে তাকে টেনে নিচে নামানো যায়, তাকে ছোট করা যায়, এই চিন্তায় আমরা নিজেদের ঘুম`ই বাদ দেই! অথচ চেষ্টা করলে যে নিজেও বড় হওয়া যায় সেই চিন্তা আমাদের মাথায় আসে না। জগতের এমন কি অতি খারাপ কিছু থেকেও যে ভালো কিছু নেয়া সম্ভব, সেটা আমরা নিতে চেষ্টা করি না।

এ থেকেই বুঝা যায় জাতিগত ভাবে আমরা এখনো সভ্য হতে পারিনি। সভ্যতা এখনো আমাদের থেকে হাজার মাইল দূরে! আমরা কেবল খারাপ`টাই নিতে এবং ভাবতে শিখেছি!

যারা অন্যের ভাল কোন ভাবেই দেখতে পারে না। অন্যের ভাল কিছু করা, খাওয়া, পরা যা দেখে তাতেই এদের শরীর জ্বালা করে, হিংসায় চোখ ভরে উঠে। তাই তারা দু`একজন খারাপ মানুষের সথে তুলনা করে সকলকে খারাপ প্রমাণ করতে চায়, সমালোচনায় চারপাশ মুখর করে তোলে।

"""আমরা যারা রাজনীতিবিদ তারা যেন এ সমস্ত ভণ্ডদের কথায় প্রভাবিত না হই। এরা রাজনীতিবিদদের চরিত্র হননে, মনোবল হননে সদা লিপ্ত। এদের কারণে মেধাবীরা রাজনীতিতে আসতে চায় না। মেধাবীদের রাজনীতিতে আসতেই হবে। কারন মেধাবীরা রাজনীতিতে না এলে সমাজের অযোগ্য, খারাপ, মেধাহীন লোকেরা রাজনীতিতে জায়গা করে নিবে। নষ্ট করবে রাজনীতির পরিবেশ আর দেশের পুরো সিস্টেম।""""

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাসুমা আক্তার পলি`র ফেসবুক থেকে নেওয়া

Saturday, February 11, 2017

শার্শায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা
মণিরামপুর কণ্ঠ ডেক্স।।

শার্শায় মাটিপুকুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরিন কোন্দলে শনিবার রাত ৯ টার সময় এক ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে আওয়ামীলীগের অপর গ্রুপের সন্ত্রাসীরা।
নিহত ছাত্রলীগ নেতা বিল্পব হোসেন (১৮) উপজেলা জিরেনগাছা গ্রামের নজরুল ইসলামের পুত্র ও উলাশী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি। এ ঘটনায় মেয়র গ্রুপের সমর্থকরা নাভারন বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

এলাকাবাসী জানাই, রাত ৯টার সময় বিল্পব হোসেন গ্রামে অনুষ্টিত ইসলামী জলসায় যাওয়ার পথে স্থানীয় হাসান মেম্বরের নেতৃত্বে ১০/১২ জন সন্ত্রাসী তাকে পিটিয়ে হত্যা করে।

তার অপরাধ শনিবার সকালে মেয়র গ্রুপের আওয়ামীলীগের তলবি সভায় সে যোগদান করেছিল।

এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মুহুর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের আটকে অভিযান অব্যহত রয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Wednesday, February 8, 2017

মনিরামপুর উপজেলার নামকরণের ইতিহাস


মণিরামপুর কণ্ঠ ডেক্স।। 
মুরশিদাবাদের প্রতাপশালী জমিদার প্রেমত্বকরের পুত্র জলকর এবং প্রাজ্ঞ ধ্যানী সাধক মুণিরাম ঋষি’র একমাত্র কন্যা রূহিতার প্রেম উপখ্যানের ধারাবাহিকতায় সৃষ্টি হয় মণিরামপুর। এই জনপদের ইতিহাস গবেষণায় বহু পৌরানিক কাহিনী ভেসে ওঠে। ভেসে ওঠে স্রোতস্বিনী হরিহর নদের তীরে গড়ে উঠা ইতিহাসের চোরাবালিতে বিলুপ্ত মণিরামপুরের নানান লোকগাঁথা। যিশুখ্রীষ্টের জন্মের সাড়ে সাত হাজার বছর পূর্বে দক্ষীণের বঙ্গোপসাগরের অববাহিকায় যে অঞ্চলের জঙ্গল কেটে কেটে বৈদিক যুগে গড়ে উঠেছিল অনার্যদের বসবাস এবং তারও কয়েক হাজার বছর আগে যখন দক্ষীণ অঞ্চল পানির তলে অবস্থান করছিল তখন সুন্দরবন সহ যশোর, মণিরামপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়ায় সভ্যতার পৃষ্ঠা জেগে উঠে ও মানব জাতির বসবাস শুরু হয়।
প্রাচীন গ্রন্থ ‘ঐতবেয় আরন্যকে’ উল্লেখ আছে অনার্য বা অসভ্য জাতি বৃক্ষ, সূর্য, চন্দ্র প্রভৃতি প্রাকৃতিক উপাদানকে ঈশ্বর জ্ঞানে পূজা করতেন। অনার্য যুগের পরবর্তী সময়ে দ্রাবিড় বা অর্দ্ধ সভ্য মানুষ বেদের কঠিন শুক্ত ভাব ভাষা বোধগম্য না হওয়ায় পৌরানিক যুগে এসে ভক্তিবাদ রূপকাশ্রিত
মুর্তি পূজা শুরু করে। সিংহ, বাঘ, সর্প, প্রভৃতি শক্তিধর জীবজন্তু তাদের পূজা পায়। এই দ্রাবিড়গণ অনার্যদের সাথে মিশে সভ্যতার এক নতুন দিক উন্মোচন করেন। বর্তমানে যশোরের বিভিন্ন অঞ্চলে যে ডোম এবং বুনো নামে দুটি পৃথক গোষ্ঠী বাস করে তারা অনার্য ও দ্রাবিড় জাতির মিশ্রিত জাতি বলে কথিত। আজও তারা শিক্ষা ও সভ্যতার অন্তরালে থেকে এক অন্ধকারময় জীবন যাপন করছেন। মণিরামপুরের হোগলড্গা, মধুপুর ও ঘুঘুদাহ সহ কয়েকটি গ্রামে এই প্রাচীন ডোম ও বুনোদের বসবাস লক্ষ্য করা যায়। পরবর্তীকালে আনুমানিক খ্রীষ্টপূর্ব ৩৫০০ বছরেরও পূর্বে আর্য নামে একটি সভ্য জাতি পোল্যান্ড এবং মধ্য এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চল হতে বাসভূমি ও সহজ খাদ্য সংস্থানের জন্য বা দিগবিজয়ের নির্মিত্তে বের হয়ে একদল পারস্যে এবং অপর দল ভারতবর্ষের সিন্ধু প্রদেশে বসতি স্থাপন করে। এই আর্য জাতি বৈদিক ধর্মের অনুসারী ছিলেন। ঋক, সাম, যজু, অর্থব গ্রন্থগুলি আর্য সভ্যতার পথিকৃৎ। আর্যদের যে শাখা পারস্যে বসতি স্থাপন করছিলেন স্থানীয় প্রভাবে বিকৃত উচ্চারণ হেতু সিন্ধু নদকে হিন্দু নদ বলতেন। এই হিন্দু নদের তীরে বসতি স্থাপনকারী আর্য গোষ্ঠীকে তারা হিন্দু বলে অভিহিত করতেন। যা পরবর্তীতে মহত্বা গান্ধী রাষ্ট্রীয়ভাবে হিন্দু নামে সীলমোহরকৃত জাতিতে পরিণত করেন।
কালক্রমে হিন্দু জাতি প্রাচীন ভারতের সকল জায়গায় ছড়িয়ে পড়েন। যশোর ও পাশ্ববর্তী অঞ্চলেও তারা বসতি স্থাপন করেন। হিন্দু সম্প্রদায় (মিলিত অনার্য, দ্রাবিড় ও আর্য) এর প্রাচীন বৈদিক প্রথায় মণিরামপুরের দূর্গপুর গ্রাম কতটা সম্পৃক্ত এবং মণিরামপুর যে পৌরানিক যুগ থেকে দুর্গাপুর নামে পরিচিত ছিলো তার সুবিশাল তাত্ত্বিক ইতিহাস ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা হবে।
সেই আদিযুগ থেকে মানুষ গবেষণায় লিপ্ত। সময়ের সাথে গবেষণার ব্যপ্তিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে গবেষকরা গবেষণা চালিয়ে যেটা পেয়েছেন পৃথিবীতে প্রাণের সূচনা হয়েছিল ২২০ কোটি বছর আগে। অর্থাৎ আগের ধারণার চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশী আগে প্রাণের সূচনা হয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার ভূখন্ডে প্রাপ্ত পাতলা কাঠের টুকরোয় জীবাশ্ম পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা এই ধারণা পেয়েছেন। এ বিষয়ে একটি গবেষণা নিবন্ধ ক্যাম্ব্রিয়ান রিসার্চ জার্নালে সম্প্রতি প্রকাশিত। বিজ্ঞানীরা ঐ কাঠের টুকরোর নাম দিয়েছেন ‘ডিসকাগমা বোটানি’। এর অর্থ চাকতি আকৃতির কাঠের বোতামের টুকরো। এই জীবাশ্ম প্রকৃতপক্ষে কিসের তা বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত নন। তবে এটা নিশ্চিত যে ওই জীবাশ্ম অন্তত কোন প্রাণী বা উদ্ভিদের নয়। জিওলজিক্যাল সায়েন্সের প্রধান গবেষক অধ্যাপক গ্রেগরি জে রিটালাক জানান এই জীবাশ্মের সঙ্গে বর্তমানে মাটির উপাদান জিওশিফন ফাঙ্গাসের গঠনের মির আছে। এ ফাঙ্গাসের অভ্যান্তরিন গর্ত সিমবায়েটিক সায়ানো ব্যাকটেরিয়া দিয়ে পূর্ণ থাকে। তিনি বলেন এই সায়ানোব্যাকটেরিয়া যা ভূমিকে সবুজ করতে ভূমিকা রাখে। এর ফলে ২২০ থেকে ২৪০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর বায়ু মন্ডলে অক্সিজেনের পরিমান বৃদ্ধি পায় বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব থেকে এখন আসি মণিরামপুরের অস্তিত্বে। প্রথমে নামকরণের ইতিহাস। এ নিয়ে রয়েছে নানান কাহিনী, গল্প আর পৌরানিক ব্যাখ্যা। গ্রীক ইতিহাস লেখার জন্য, হিরোডটাস এর মতো ইতিহাসের জনক থাকলেও ভারতীয় উপমহাদেশের বাংলার ইতিহাস লেখার জন্য কেউ ছিলো না। তবে সম্রাট আকবর এর শাসনামলে আবুল ফজল লিখিত ‘আকবরনামা’ ও আইনই আকবর বহু যুগের প্রাচীন ইতিহাস বহন করে। এছাড়া মির্জা নাথান এর বাহারীস্থান-ই গায়বী, এম এ রহিম এর বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস, ডব্লিউ এইচ মোরল্যান্ড এর ‘এ্যাগরোরিয়ান সিস্টেম অব ইন্ডিয়া’। পরবর্তীতে সতীশচন্দ্র মিত্র রচিত যশোর-খুলনার ইতিহাস ১ম খন্ড ১৯১৪ সালে এবং ২য় খন্ড ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়। সকল ইতিহাস পর্যালোচনা ও গবেষণা করলে কয়েকটি শক্ত যুক্তি প্রমানের সন্ধান মেলে। তার মধ্যে যশোর রাজ্যের সীতারাম রায় ১৬৯৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর তার বন্ধু ও পরামর্শদাতা প্রখ্যাত আইনজ্ঞ উকিল মুণিরাম রায়কে নিয়ে নানা কাহিনীর সাথে মুণিরামের কন্যার সাথে রাজা সীতারামের বিবাহ জটিলতা এবং মণিরামপুর সৃষ্টি। তারও পূর্বে প্রগৈতিহাসিক যুগের হাজার বছর পিছনের ইতিহাসে ফিরলে জানা যায় আটলান্টিক হয়ে বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী গভীর জঙ্গলের সাপদময় এই মণিরামপুর এর হরিহরনগর অঞ্চলে দেড়শত হাতির পিঠে চড়ে কখনো সাগর নদীপথে, কখনো স্থল পথে, কখনো জঙ্গল ভেদ করে এক বীরযোদ্ধার আগমন ঘটে । সেই মহাবীর ‘মারাঙ রামমণিক্য’ এখানে বসতি স্থাপন করেন। প্রাচীন পরাশয়া পুরাণের সপ্তদশ খন্ডে বলা হয়েছে রামমণিক্যচরের মানুষ অর্থাৎ আজকের মণিরামপুরের মানুষ মহাবীর মারঙ রামমণিক্যের বংশধর। তখন বঙ্গোসাগরের উপকণ্ঠের এই অঞ্চলকে বলা হতো রামমণিক্যচর। ঐ সময় বঙ্গোপসাগর থেকে গঙ্গা-পদ্মার মাঝখানের বিশাল সুন্দরবনের উপকন্ঠ রামমাণিক্যচর নামে পরিচিত ছিল। তাদের ভাষা ছিলো বিকৃত নানান ভাষার মিশ্রণ। কথিত আছে প্রাচীন মঙ্গলীয় ও স্পেন অঞ্চলের নারীরা পরবর্তীতে এই বীরদের কাছে এসে মিলিত হতেন তাদের গর্ভে বীরসন্তান ধারণ করবার জন্য। সেই সূত্রে স্পেনের শাসক ইসাবেলা, ফার্র্ডিন্যান্ড (কলম্বাসের আমেরিকা আবিস্কারের পূর্বের শাসক) এই মহাবীর মারাঙ রামমণিক্যের বংশধর ছিলেন এটা বলা যেতে পারে। পূরাণের বিশাল এই রাম মণিক্যচর সম্পর্কিত কাহিনী জানা যাবে। এছাড়া মণিরামপুর নামকরণের আরও বিশ্বাসযোগ্য কাহিনী- যেটা দিয়ে লেখা শুরু হয়েছিল- অলিখিত ইতিহাসের চোরাবালিতে বিলুপ্ত হয়েছে আমাদের বীরত্বগাঁথা। আবার অজানা বয়ে গেছে বাংলার স্বাধীন নবাব শেরশাহ ১৫৪১ সালে যশোর থেকে ফাতেহাবাদ, যশোর থেকে মণিরামপুর হয়ে সাতক্ষীরার এই রাস্তাটি নির্মাণ করেন এবং বেশ কয়েকবার মণিরামপুরের উপর দিয়ে ঘোড়ায় চড়ে সাতক্ষীরা গমন করেন।
সুবাবাংলার নবাব মুরশিদকুলি খান ১৭০৪ সালে ক্ষমতা দখল করার পর বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুরশিদাবাদে স্থানান্তর করেন। তার নামানুসারে মুরশিদাবাদের নামকরণ করেন। ১৭১১ সালে নবাব মুরশিদকুলি খান প্রেমত্বকরকে মুরশিদাবাদের জমিদার এর দায়িত্ব প্রদান করেন। ১৭১৫ সালে জমিদার প্রেমত্বকরের পুত্র জলকর ভালোবাসেন ঐ একই রাজ্যের জায়গীর প্রাজ্ঞ সাধক মুণিরাম ঋষির একমাত্র কন্যা রূহিতাকে। জলকর ও রূহিতার প্রেম যখন তুমূল পর্যায়ে তখন সারা রাজ্যময় জানাজানি হয় এবং জমিদার প্রেমত্বকর জানতে পেরে মুনিরাম ঋষিকে তার জায়গীর থেকে উচ্ছেদ করেন। এ ঘটনায় মর্মাহত হয়ে মুণিরাম ঋষির স্ত্রী শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তখন মাতৃহীন কন্যা রূহিতাকে নিয়ে বাবা মুণিরাম ঋষি জমিদারের রক্ত চক্ষুর আড়ালে যাওয়ার জন্য মনস্থির করেন এবং নিরুদ্দ্যেশ যাত্রা করেন। নদীপথে ভাসতে ভাসতে এক গভীর রাতে হরিহর নদের ঘাটে ভেড়েন এবং সামনে একটি বিস্তৃত পাকুড় গাছ দেখে তার তলায় আশ্রয় গ্রহণ করেন। বর্তমানে মণিরামপুর মশুরী হাটের কালী মন্দীরের বটগাছ সাদৃশ পাকুড় গাছ তলায় বাবা মুণিরাম ঋষি ও কন্যা রূহিতা রাত্রী যাপন করেন। মণিরাম ঋষি ছিলেন লম্বা সুঠাম দেহের লম্বা চুলের ধ্যানী সাধক পুরুষ। চোখের গভীরে লুকানো ইতিহাস তার জ্ঞান প্রজ্ঞার প্রতিচ্ছবি। প্রাচীন গ্রন্থ পাঠে ছিলো তার গভীর মোহ। সকাল হতেই মানুষের ভীড় জমে যায়। সবাই দেখতে থাকে গভীর ধ্যানে মগ্ন এক সন্ন্যাসী সাধক দেবতা তুল্য ঋষি পুরুষকে। পাশে হাজার বছরের ক্লান্তির চোখে মায়াবী লক্ষী সুন্দরী রূহিতা (যার নামে মণিরামপুরের রোহিতা গ্রাম,পূর্বে মানচিত্রে রুহিতা ছিল)। ধ্যানে জ্ঞানে পূর্ণ সাধক ঋষি দৃঢ় মনোবল নিয়ে অর্জন করেন মানুষের ভালোবাসা। আর রূহিতার ভিতর বাহির একাই ভাবনায় প্রেমিক জলকর। হৃদয় মন্দিরে যার পূজা সর্বক্ষণ ঘুমে নির্ঘুমে স্থির রূহিতার ভিতরটা যেন অস্থির হয়ে ওঠে ক্রমশ। স্বপ্নের জাল ভেদ করে চোখের পাতায় ভাসতে থাকে নানান দৃশ্যকল্প। ওদিকে জমিদারপুত্র জলকর রূহিতাকে না পেয়ে দিগবিদিক খুঁজতে থাকে। তখন জলকর জানতে পারে তার বাবা প্রেমত্বকর রূহিতার বাবাকে জায়গীর থেকে উচ্ছেদ করেছে। সাথে সাথে জলকর ঘোড়া ছুটিয়ে সারা রাজ্যময় তোলপাড় করে ফেলে এবং কয়েকদিন পর জলকর রূহিতাকে খুঁজে পায় এই মণিরামপুরে। জলকর কাউকে কিছু না বলে রূহিতাকে ঘোড়ার পিঠে তুলে নিয়ে পালাতে থাকে। তখন মুণিরাম ঋষি যশোর রাজ্যের রাজা সীতারাম এর কোর্টে নালিশ জানায় এবং সাথে সাথে রাজ্যর নিরাপত্তা প্রহরী সৈন্যদল জলকর ও রূহিতাকে ধাওয়া করে। রূহিতা ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে এলামেলো দৌড়াতে থাকে। আর জলকরকে ধরে ফেলে আজকের জলকর গ্রামে এসে। যার নামে জলকর গ্রামের নামকরন। তারপর রূহিতা ও জলকর রাজা সীতারামের হেফাজতে বন্দি হয়। প্রেমের কাহিনী শুনে রাজা সীতারাম তাদের বিয়ে দিয়ে জমিদার প্রেমত্বকরকে বার্তা পাঠালে তীব্র ক্রোধে জমিদার জলকরকে ত্যাজ্য করে তার উত্তরসুরী থেকে বঞ্চিত করেন। তখন রূহিতা ও জলকর দু’জন অজানা পথে চলে যান যার খোঁজ আর কোনদিন মেলেনি। এদিকে মুণিরাম ঋষি সব হারিয়ে ধ্যানে মননে ভগবানের সান্নিধ্য লাভে নিজেকে সমর্পণ করেন। ক্রমে তিনি ধর্ম পালন আর জ্ঞান অন্বেষণের ভিতর দিয়ে সামাজিক হয়ে ওঠেন। মানুষের সুখে দু:খে একাত্ব হয়ে যান। এই বৃহৎ অঞ্চলের সর্ব শ্রেণীর মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি এই মন্দিরেই জীবন পার করেন। ১৭২৮ সালে এই মহান প্রজ্ঞা সাধক মুণিরাম ঋষির মৃত্যু হলে এই অঞ্চলে শোকের ছাঁয়া নেমে আসে। মানুষের ভিতরের ভালোবাসার বহির্প্রকাশে আস্তে আস্তে এর নাম হয়ে যায় মুণিরামপুর। পরে মণিরামপুর। পরবর্তী সময়ে ১৯১৭ সালে ১৫ জুলাই ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় মণিরামপুর থানা। ঐ সালের ২১ সেপ্টেম্বর গ্যাজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার পর ১৯১৮ সালের ১’ জানুয়ারী থেকে মণিরামপুর থানার কার্যক্রম চালু হয়। ১৯৮৩ সালের ১৫ এপ্রিল উপজেলায় রূপান্তর হয়। বর্তমানে ১৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে আমাদের প্রাণের ঐতিহ্যবাহী মণিরামপুর।।  ★★সংগৃহীত★★ 

Monday, January 30, 2017

মনিরামপুর প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন★ সভাপতি লিটন, সম্পাদক মোতাহার
মনিরামপুর কণ্ঠ ডেক্স।।

মণিরামপুর প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার সকাল ১০ টা হতে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে মনিরামপুর পাবলিক লাইব্রেরী হল রুমে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসক্লাবের ৫২ জন ভোটারের মধ্যে ৫১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ১৭টি পদের বিপরীতে ২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। নির্বাচনে ভোটারদের গোপন ভোটে সভাপতি পদে ফারুক আহম্মেদ লিটন (দৈনিক সমাজের কাগজ), সহ-সভাপতি পদে নুরুল ইসলাম খোকন (দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ), এমএ মতিন (দৈনিক নয়াদিগন্ত/স্পন্দন), অর্থ সম্পাদক পদে ডাঃ মিজানুর রহমান (দৈনিক আলোকিত সংবাদ), দপ্তর সম্পাদক পদে জাহাঙ্গীর আলম (দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন), ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে হারুন-অর-রশিদ সেলিম (দৈনিক ভোরের দর্পন/ প্রজন্মের ভাবনা),তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পদে শফিয়ার রহমান (দৈনিক সত্যপাঠ), প্রচার সম্পাদক পদে হারুন অর-রশীদ (দৈনিক নওয়াপাড়া), নির্বাহী সদস্য পদে অধ্যাপক আব্বাস উদ্দীন (দৈনিক ভোরের ডাক/ প্রবাহ), অধ্যাপক হোসাইন নজরুল হক (দৈনিক আমার সময়), উৎপল বিশ্বাস (দৈনিক গ্রামের কাগজ), আসাদুজ্জামান রয়েল (দৈনিক দিনকাল/নওয়াপাড়া) ও মাস্টার আনিছুর রহমান (দৈনিক পূর্বাঞ্চল/যশোর) নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচন পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাচন অফিসার সৈয়দ আল এমরান ও উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন। এর আগে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হন সাধারণ সম্পাদক পদে মোতাহার হোসেন (দৈনিক যুগান্তর/ সমাজের কথা), যুগ্ম সম্পাদক পদে জিএম ফারুক আলম (দৈনিক সকালের খবর/সত্যপাঠ), প্রভাষক নুরুল হক (দৈনিক ভোরের কাগজ/স্পন্দন) ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে এসএম সিদ্দিক (দৈনিক সময়ের খবর)।
এদিকে প্রেসক্লাবের নব-নির্বাচিতদের অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু, পৌর মেয়র কাজী মাহমুদুল হাসান, যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ, জেলা আ’লীগের সদস্য প্রভাষ,,ক ফারুক হোসেন, জেলা পরিষদের সদস্য শহীদুল ইসলাম মিলন, গৌতম চক্রবর্তী, এসএম ফারুক হুসাইন, আইনজীবি সমিতির নেতা এ্যাড. বশির আহম্মেদ খান, প্যানেল মেয়র-১ কামরুজ্জামান, মনিরামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মুরাদুজ্জামান মুরাদ ও পাবলিক লাইব্রেরীর নেতৃবৃন্দ।

Sunday, January 29, 2017

মনিরামপুর প্রেসক্লাবের নির্বচন আজ

মণিরামপুর কণ্ঠ ডেক্স।।

স্থানীয় নির্বাচন কমিশনের সকল প্রস্তুতির মধ্যদিয়ে আজ সোমবার মণিরামপুর প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলবে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিরতীহীন ভাবে মণিরামপুর পাবলিক লাইব্রেরীর হলরুমে এ ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী তফশীল অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ আল এমরান। এ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক দুইজন ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে কোন প্রার্থী না থাকায় সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক জি,এম ফারুক আলম ও নূরুল হক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে এস,এম সিদ্দিক আজ ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণায় নির্বাচিত হবেন। সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র ক্রয় করেন ৪ জন। তাদের মধ্যে এস,এম মজনুর রহমান ও শাহিনুর রহমান পান্না প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন এবং পরে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের সময় পার করিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সভাপতির পদ থেকে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ান এ,কে,এম নিছার উদ্দীন খান আজম। ফলে সভাপতি পদে প্রার্থী হিসেবে একমাত্র বহাল রয়েছেন ফারুক আহমেদ লিটন। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, সভাপতি প্রার্থীর পদ থেকে প্রত্যাহারের বৈধতা পেয়েছেন এস,এম মজনুর রহমান ও শাহিনুর রহমান পান্না। কিন্তু প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কোন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালেও আইন ও সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি নির্বাচনে প্রার্থী বহাল রয়েছেন। অন্যান্য পদে সহ-সভাপতি তিন জন, দপ্তর সম্পাদক দুই জন, অর্থ সম্পাদক দুই জন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক দুই জন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক দুই জন, প্রচার সম্পাদক দুই জন, এবং কার্য নির্বাহী সদস্য পদে সাত জন প্রার্থী হিসেবে প্রথম থেকেই নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।