Wednesday, March 15, 2017

যশোর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের আবেদনপত্র আহ্বান
মণিরামপুর কণ্ঠ ডেক্স।।

স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা এমপি বরাবর যশোর জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের আগামীকাল ১৬ মার্চ ২০১৭ বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টার মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মাননীয় সভাপতি দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা এমপি’র ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে (বাড়ি-৫১/এ, সড়ক-৩/এ, ধানমন্ডি আ/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা) আবেদপত্র জমা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো যাচ্ছে।

তারিখ: ১৫ মার্চ ২০১৭

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Tuesday, March 14, 2017

Monday, March 6, 2017

জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের মায়ের ইন্তেকাল
শোক সংবাদঃ

যশোর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জননেতা শাহীন চাকলাদারের আম্মা ভোর আনুমানিক ০৬:৪৫ মিনিটে ঢাকা আনোয়ারা খান হাসপাতালে মৃত্যুবরন করেছেন। (ইন্নাহ- লিল্লাহে....রাজেউন....)।

বিস্তারিত পরবর্তীতে---------------

Sunday, February 12, 2017

আমি একজন পলিটিশিয়ান, ছাত্রনেত্রী
মাসুমা আক্তার পলি

আমার সাথে কিছুদিন আগে এক অফিসার এর সাথে পরিচয় হলে, যখন আমি বললাম আমি একজন পলিটিশিয়ান...ছাত্রনেত্রী। তখন সে এমনভাবে নাক-মুখ-চোখ কুচকাল যেন আমি একজন ভয়ংকর ক্রিমিনাল, চরিত্রহীন, লম্পট, খারাপ লোক। সে যেহেতু ভদ্রলোক, তাই মুখের উপর ভদ্রতা বশত কোন খারাপ মন্তব্য করল না, মনে মনে আমার চৌদ্দ গুষ্ঠি ধুয়ে দিল।

মুচকি হেসে শুধু বলল ভালই তো আছেন, আয় ইনকাম তো ভালই কি বলেন?

ইনকাম কিসের বলতেই ভদ্রলোক বললেন অমন সবাই বলে আবার সুযোগ পেলে কে না সুবিধা নেয়? ব্যাপার না। তারপর শুরু করল ওমুক নেতা এত খারাপ, মন্ত্রী-এমপিরা এত খারাপ।

তখন আমি তাকে বললাম আপনার কাছে ডাক্তাররা কেমন?
সাক্ষাৎ কষাই মিয়া, একেবারে ডাকাত।

পুলিশদের কেমন লাগে?
ফেরেপবাজ, চামার। পুলিশে ছুলে তার আর রক্ষা নাই।

আমলা?
ঘুষখোর, চোগলখোর, দূর্নীতিবাজ।

সাংবাদিক?
মিথ্যাচারী, লম্পট, বদমাশ, হলুদ সাংবাদিকে দেশটা ভরেে গেছে।

শিক্ষক?
চাঁদাবাজ, কোচিংবাজ। সবাই খারাপ বুঝলেন, সমাজটা এক্কেবারে পচে গেছে।

আমি বললাম ও আচ্ছা।

তো ভদ্রলোক কিছুদিন পরেই ফোন করে বললেন আপা আপনার কলেজে আমার ভাগনিকে ভর্তি করে দিতে পারবেন কি? টাকা পয়সা কোন ব্যাপার না।

আমি বললাম জননেত্রী শেখ হাসিনার এই দেশে ভর্তি বাণিজ্য চলে না। এই প্রথম বলল তা অবশ্য ঠিক বলছেন।

আসলে আমাদের চারপাশে এমন ভণ্ড লোকই বেশি।

আমাদের মন-মানসিকতা কেমন, সেটা বুঝা যায় আমরা নিয়মিত কোন বিষয় গুলো চর্চা করি সেটার উপর। গীবত করে আমরা বড়ই আনন্দিত হই। হয়তো নির্দিষ্ট কারও আচরণ আপনার কাছে খারাপ লেগেছে, তাকে পছন্দ নাই করতে পারেন। এটা হতেই পারে। জগতের সবাই নিশ্চয় সবাইকে পছন্দ করবে না। তা বলে ঢালাও ভাবে সবার চরিত্র হননে আপনি উঠে পড়ে লাগবেন। কোনো সভ্য সমাজে এই ধরনের প্র্যাকটিস গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

আমরা আসলে কারো ভালো দেখতে পারি না। কেউ একটু বড় হয়ে গেলে, একটু ভালো কিছু করলে আমাদের গায়ে লাগে। কিভাবে তাকে টেনে নিচে নামানো যায়, তাকে ছোট করা যায়, এই চিন্তায় আমরা নিজেদের ঘুম`ই বাদ দেই! অথচ চেষ্টা করলে যে নিজেও বড় হওয়া যায় সেই চিন্তা আমাদের মাথায় আসে না। জগতের এমন কি অতি খারাপ কিছু থেকেও যে ভালো কিছু নেয়া সম্ভব, সেটা আমরা নিতে চেষ্টা করি না।

এ থেকেই বুঝা যায় জাতিগত ভাবে আমরা এখনো সভ্য হতে পারিনি। সভ্যতা এখনো আমাদের থেকে হাজার মাইল দূরে! আমরা কেবল খারাপ`টাই নিতে এবং ভাবতে শিখেছি!

যারা অন্যের ভাল কোন ভাবেই দেখতে পারে না। অন্যের ভাল কিছু করা, খাওয়া, পরা যা দেখে তাতেই এদের শরীর জ্বালা করে, হিংসায় চোখ ভরে উঠে। তাই তারা দু`একজন খারাপ মানুষের সথে তুলনা করে সকলকে খারাপ প্রমাণ করতে চায়, সমালোচনায় চারপাশ মুখর করে তোলে।

"""আমরা যারা রাজনীতিবিদ তারা যেন এ সমস্ত ভণ্ডদের কথায় প্রভাবিত না হই। এরা রাজনীতিবিদদের চরিত্র হননে, মনোবল হননে সদা লিপ্ত। এদের কারণে মেধাবীরা রাজনীতিতে আসতে চায় না। মেধাবীদের রাজনীতিতে আসতেই হবে। কারন মেধাবীরা রাজনীতিতে না এলে সমাজের অযোগ্য, খারাপ, মেধাহীন লোকেরা রাজনীতিতে জায়গা করে নিবে। নষ্ট করবে রাজনীতির পরিবেশ আর দেশের পুরো সিস্টেম।""""

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাসুমা আক্তার পলি`র ফেসবুক থেকে নেওয়া

Saturday, February 11, 2017

শার্শায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা
মণিরামপুর কণ্ঠ ডেক্স।।

শার্শায় মাটিপুকুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরিন কোন্দলে শনিবার রাত ৯ টার সময় এক ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে আওয়ামীলীগের অপর গ্রুপের সন্ত্রাসীরা।
নিহত ছাত্রলীগ নেতা বিল্পব হোসেন (১৮) উপজেলা জিরেনগাছা গ্রামের নজরুল ইসলামের পুত্র ও উলাশী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি। এ ঘটনায় মেয়র গ্রুপের সমর্থকরা নাভারন বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

এলাকাবাসী জানাই, রাত ৯টার সময় বিল্পব হোসেন গ্রামে অনুষ্টিত ইসলামী জলসায় যাওয়ার পথে স্থানীয় হাসান মেম্বরের নেতৃত্বে ১০/১২ জন সন্ত্রাসী তাকে পিটিয়ে হত্যা করে।

তার অপরাধ শনিবার সকালে মেয়র গ্রুপের আওয়ামীলীগের তলবি সভায় সে যোগদান করেছিল।

এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মুহুর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের আটকে অভিযান অব্যহত রয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Wednesday, February 8, 2017

মনিরামপুর উপজেলার নামকরণের ইতিহাস


মণিরামপুর কণ্ঠ ডেক্স।। 
মুরশিদাবাদের প্রতাপশালী জমিদার প্রেমত্বকরের পুত্র জলকর এবং প্রাজ্ঞ ধ্যানী সাধক মুণিরাম ঋষি’র একমাত্র কন্যা রূহিতার প্রেম উপখ্যানের ধারাবাহিকতায় সৃষ্টি হয় মণিরামপুর। এই জনপদের ইতিহাস গবেষণায় বহু পৌরানিক কাহিনী ভেসে ওঠে। ভেসে ওঠে স্রোতস্বিনী হরিহর নদের তীরে গড়ে উঠা ইতিহাসের চোরাবালিতে বিলুপ্ত মণিরামপুরের নানান লোকগাঁথা। যিশুখ্রীষ্টের জন্মের সাড়ে সাত হাজার বছর পূর্বে দক্ষীণের বঙ্গোপসাগরের অববাহিকায় যে অঞ্চলের জঙ্গল কেটে কেটে বৈদিক যুগে গড়ে উঠেছিল অনার্যদের বসবাস এবং তারও কয়েক হাজার বছর আগে যখন দক্ষীণ অঞ্চল পানির তলে অবস্থান করছিল তখন সুন্দরবন সহ যশোর, মণিরামপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়ায় সভ্যতার পৃষ্ঠা জেগে উঠে ও মানব জাতির বসবাস শুরু হয়।
প্রাচীন গ্রন্থ ‘ঐতবেয় আরন্যকে’ উল্লেখ আছে অনার্য বা অসভ্য জাতি বৃক্ষ, সূর্য, চন্দ্র প্রভৃতি প্রাকৃতিক উপাদানকে ঈশ্বর জ্ঞানে পূজা করতেন। অনার্য যুগের পরবর্তী সময়ে দ্রাবিড় বা অর্দ্ধ সভ্য মানুষ বেদের কঠিন শুক্ত ভাব ভাষা বোধগম্য না হওয়ায় পৌরানিক যুগে এসে ভক্তিবাদ রূপকাশ্রিত
মুর্তি পূজা শুরু করে। সিংহ, বাঘ, সর্প, প্রভৃতি শক্তিধর জীবজন্তু তাদের পূজা পায়। এই দ্রাবিড়গণ অনার্যদের সাথে মিশে সভ্যতার এক নতুন দিক উন্মোচন করেন। বর্তমানে যশোরের বিভিন্ন অঞ্চলে যে ডোম এবং বুনো নামে দুটি পৃথক গোষ্ঠী বাস করে তারা অনার্য ও দ্রাবিড় জাতির মিশ্রিত জাতি বলে কথিত। আজও তারা শিক্ষা ও সভ্যতার অন্তরালে থেকে এক অন্ধকারময় জীবন যাপন করছেন। মণিরামপুরের হোগলড্গা, মধুপুর ও ঘুঘুদাহ সহ কয়েকটি গ্রামে এই প্রাচীন ডোম ও বুনোদের বসবাস লক্ষ্য করা যায়। পরবর্তীকালে আনুমানিক খ্রীষ্টপূর্ব ৩৫০০ বছরেরও পূর্বে আর্য নামে একটি সভ্য জাতি পোল্যান্ড এবং মধ্য এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চল হতে বাসভূমি ও সহজ খাদ্য সংস্থানের জন্য বা দিগবিজয়ের নির্মিত্তে বের হয়ে একদল পারস্যে এবং অপর দল ভারতবর্ষের সিন্ধু প্রদেশে বসতি স্থাপন করে। এই আর্য জাতি বৈদিক ধর্মের অনুসারী ছিলেন। ঋক, সাম, যজু, অর্থব গ্রন্থগুলি আর্য সভ্যতার পথিকৃৎ। আর্যদের যে শাখা পারস্যে বসতি স্থাপন করছিলেন স্থানীয় প্রভাবে বিকৃত উচ্চারণ হেতু সিন্ধু নদকে হিন্দু নদ বলতেন। এই হিন্দু নদের তীরে বসতি স্থাপনকারী আর্য গোষ্ঠীকে তারা হিন্দু বলে অভিহিত করতেন। যা পরবর্তীতে মহত্বা গান্ধী রাষ্ট্রীয়ভাবে হিন্দু নামে সীলমোহরকৃত জাতিতে পরিণত করেন।
কালক্রমে হিন্দু জাতি প্রাচীন ভারতের সকল জায়গায় ছড়িয়ে পড়েন। যশোর ও পাশ্ববর্তী অঞ্চলেও তারা বসতি স্থাপন করেন। হিন্দু সম্প্রদায় (মিলিত অনার্য, দ্রাবিড় ও আর্য) এর প্রাচীন বৈদিক প্রথায় মণিরামপুরের দূর্গপুর গ্রাম কতটা সম্পৃক্ত এবং মণিরামপুর যে পৌরানিক যুগ থেকে দুর্গাপুর নামে পরিচিত ছিলো তার সুবিশাল তাত্ত্বিক ইতিহাস ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা হবে।
সেই আদিযুগ থেকে মানুষ গবেষণায় লিপ্ত। সময়ের সাথে গবেষণার ব্যপ্তিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে গবেষকরা গবেষণা চালিয়ে যেটা পেয়েছেন পৃথিবীতে প্রাণের সূচনা হয়েছিল ২২০ কোটি বছর আগে। অর্থাৎ আগের ধারণার চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশী আগে প্রাণের সূচনা হয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার ভূখন্ডে প্রাপ্ত পাতলা কাঠের টুকরোয় জীবাশ্ম পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা এই ধারণা পেয়েছেন। এ বিষয়ে একটি গবেষণা নিবন্ধ ক্যাম্ব্রিয়ান রিসার্চ জার্নালে সম্প্রতি প্রকাশিত। বিজ্ঞানীরা ঐ কাঠের টুকরোর নাম দিয়েছেন ‘ডিসকাগমা বোটানি’। এর অর্থ চাকতি আকৃতির কাঠের বোতামের টুকরো। এই জীবাশ্ম প্রকৃতপক্ষে কিসের তা বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত নন। তবে এটা নিশ্চিত যে ওই জীবাশ্ম অন্তত কোন প্রাণী বা উদ্ভিদের নয়। জিওলজিক্যাল সায়েন্সের প্রধান গবেষক অধ্যাপক গ্রেগরি জে রিটালাক জানান এই জীবাশ্মের সঙ্গে বর্তমানে মাটির উপাদান জিওশিফন ফাঙ্গাসের গঠনের মির আছে। এ ফাঙ্গাসের অভ্যান্তরিন গর্ত সিমবায়েটিক সায়ানো ব্যাকটেরিয়া দিয়ে পূর্ণ থাকে। তিনি বলেন এই সায়ানোব্যাকটেরিয়া যা ভূমিকে সবুজ করতে ভূমিকা রাখে। এর ফলে ২২০ থেকে ২৪০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর বায়ু মন্ডলে অক্সিজেনের পরিমান বৃদ্ধি পায় বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব থেকে এখন আসি মণিরামপুরের অস্তিত্বে। প্রথমে নামকরণের ইতিহাস। এ নিয়ে রয়েছে নানান কাহিনী, গল্প আর পৌরানিক ব্যাখ্যা। গ্রীক ইতিহাস লেখার জন্য, হিরোডটাস এর মতো ইতিহাসের জনক থাকলেও ভারতীয় উপমহাদেশের বাংলার ইতিহাস লেখার জন্য কেউ ছিলো না। তবে সম্রাট আকবর এর শাসনামলে আবুল ফজল লিখিত ‘আকবরনামা’ ও আইনই আকবর বহু যুগের প্রাচীন ইতিহাস বহন করে। এছাড়া মির্জা নাথান এর বাহারীস্থান-ই গায়বী, এম এ রহিম এর বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস, ডব্লিউ এইচ মোরল্যান্ড এর ‘এ্যাগরোরিয়ান সিস্টেম অব ইন্ডিয়া’। পরবর্তীতে সতীশচন্দ্র মিত্র রচিত যশোর-খুলনার ইতিহাস ১ম খন্ড ১৯১৪ সালে এবং ২য় খন্ড ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়। সকল ইতিহাস পর্যালোচনা ও গবেষণা করলে কয়েকটি শক্ত যুক্তি প্রমানের সন্ধান মেলে। তার মধ্যে যশোর রাজ্যের সীতারাম রায় ১৬৯৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর তার বন্ধু ও পরামর্শদাতা প্রখ্যাত আইনজ্ঞ উকিল মুণিরাম রায়কে নিয়ে নানা কাহিনীর সাথে মুণিরামের কন্যার সাথে রাজা সীতারামের বিবাহ জটিলতা এবং মণিরামপুর সৃষ্টি। তারও পূর্বে প্রগৈতিহাসিক যুগের হাজার বছর পিছনের ইতিহাসে ফিরলে জানা যায় আটলান্টিক হয়ে বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী গভীর জঙ্গলের সাপদময় এই মণিরামপুর এর হরিহরনগর অঞ্চলে দেড়শত হাতির পিঠে চড়ে কখনো সাগর নদীপথে, কখনো স্থল পথে, কখনো জঙ্গল ভেদ করে এক বীরযোদ্ধার আগমন ঘটে । সেই মহাবীর ‘মারাঙ রামমণিক্য’ এখানে বসতি স্থাপন করেন। প্রাচীন পরাশয়া পুরাণের সপ্তদশ খন্ডে বলা হয়েছে রামমণিক্যচরের মানুষ অর্থাৎ আজকের মণিরামপুরের মানুষ মহাবীর মারঙ রামমণিক্যের বংশধর। তখন বঙ্গোসাগরের উপকণ্ঠের এই অঞ্চলকে বলা হতো রামমণিক্যচর। ঐ সময় বঙ্গোপসাগর থেকে গঙ্গা-পদ্মার মাঝখানের বিশাল সুন্দরবনের উপকন্ঠ রামমাণিক্যচর নামে পরিচিত ছিল। তাদের ভাষা ছিলো বিকৃত নানান ভাষার মিশ্রণ। কথিত আছে প্রাচীন মঙ্গলীয় ও স্পেন অঞ্চলের নারীরা পরবর্তীতে এই বীরদের কাছে এসে মিলিত হতেন তাদের গর্ভে বীরসন্তান ধারণ করবার জন্য। সেই সূত্রে স্পেনের শাসক ইসাবেলা, ফার্র্ডিন্যান্ড (কলম্বাসের আমেরিকা আবিস্কারের পূর্বের শাসক) এই মহাবীর মারাঙ রামমণিক্যের বংশধর ছিলেন এটা বলা যেতে পারে। পূরাণের বিশাল এই রাম মণিক্যচর সম্পর্কিত কাহিনী জানা যাবে। এছাড়া মণিরামপুর নামকরণের আরও বিশ্বাসযোগ্য কাহিনী- যেটা দিয়ে লেখা শুরু হয়েছিল- অলিখিত ইতিহাসের চোরাবালিতে বিলুপ্ত হয়েছে আমাদের বীরত্বগাঁথা। আবার অজানা বয়ে গেছে বাংলার স্বাধীন নবাব শেরশাহ ১৫৪১ সালে যশোর থেকে ফাতেহাবাদ, যশোর থেকে মণিরামপুর হয়ে সাতক্ষীরার এই রাস্তাটি নির্মাণ করেন এবং বেশ কয়েকবার মণিরামপুরের উপর দিয়ে ঘোড়ায় চড়ে সাতক্ষীরা গমন করেন।
সুবাবাংলার নবাব মুরশিদকুলি খান ১৭০৪ সালে ক্ষমতা দখল করার পর বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুরশিদাবাদে স্থানান্তর করেন। তার নামানুসারে মুরশিদাবাদের নামকরণ করেন। ১৭১১ সালে নবাব মুরশিদকুলি খান প্রেমত্বকরকে মুরশিদাবাদের জমিদার এর দায়িত্ব প্রদান করেন। ১৭১৫ সালে জমিদার প্রেমত্বকরের পুত্র জলকর ভালোবাসেন ঐ একই রাজ্যের জায়গীর প্রাজ্ঞ সাধক মুণিরাম ঋষির একমাত্র কন্যা রূহিতাকে। জলকর ও রূহিতার প্রেম যখন তুমূল পর্যায়ে তখন সারা রাজ্যময় জানাজানি হয় এবং জমিদার প্রেমত্বকর জানতে পেরে মুনিরাম ঋষিকে তার জায়গীর থেকে উচ্ছেদ করেন। এ ঘটনায় মর্মাহত হয়ে মুণিরাম ঋষির স্ত্রী শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তখন মাতৃহীন কন্যা রূহিতাকে নিয়ে বাবা মুণিরাম ঋষি জমিদারের রক্ত চক্ষুর আড়ালে যাওয়ার জন্য মনস্থির করেন এবং নিরুদ্দ্যেশ যাত্রা করেন। নদীপথে ভাসতে ভাসতে এক গভীর রাতে হরিহর নদের ঘাটে ভেড়েন এবং সামনে একটি বিস্তৃত পাকুড় গাছ দেখে তার তলায় আশ্রয় গ্রহণ করেন। বর্তমানে মণিরামপুর মশুরী হাটের কালী মন্দীরের বটগাছ সাদৃশ পাকুড় গাছ তলায় বাবা মুণিরাম ঋষি ও কন্যা রূহিতা রাত্রী যাপন করেন। মণিরাম ঋষি ছিলেন লম্বা সুঠাম দেহের লম্বা চুলের ধ্যানী সাধক পুরুষ। চোখের গভীরে লুকানো ইতিহাস তার জ্ঞান প্রজ্ঞার প্রতিচ্ছবি। প্রাচীন গ্রন্থ পাঠে ছিলো তার গভীর মোহ। সকাল হতেই মানুষের ভীড় জমে যায়। সবাই দেখতে থাকে গভীর ধ্যানে মগ্ন এক সন্ন্যাসী সাধক দেবতা তুল্য ঋষি পুরুষকে। পাশে হাজার বছরের ক্লান্তির চোখে মায়াবী লক্ষী সুন্দরী রূহিতা (যার নামে মণিরামপুরের রোহিতা গ্রাম,পূর্বে মানচিত্রে রুহিতা ছিল)। ধ্যানে জ্ঞানে পূর্ণ সাধক ঋষি দৃঢ় মনোবল নিয়ে অর্জন করেন মানুষের ভালোবাসা। আর রূহিতার ভিতর বাহির একাই ভাবনায় প্রেমিক জলকর। হৃদয় মন্দিরে যার পূজা সর্বক্ষণ ঘুমে নির্ঘুমে স্থির রূহিতার ভিতরটা যেন অস্থির হয়ে ওঠে ক্রমশ। স্বপ্নের জাল ভেদ করে চোখের পাতায় ভাসতে থাকে নানান দৃশ্যকল্প। ওদিকে জমিদারপুত্র জলকর রূহিতাকে না পেয়ে দিগবিদিক খুঁজতে থাকে। তখন জলকর জানতে পারে তার বাবা প্রেমত্বকর রূহিতার বাবাকে জায়গীর থেকে উচ্ছেদ করেছে। সাথে সাথে জলকর ঘোড়া ছুটিয়ে সারা রাজ্যময় তোলপাড় করে ফেলে এবং কয়েকদিন পর জলকর রূহিতাকে খুঁজে পায় এই মণিরামপুরে। জলকর কাউকে কিছু না বলে রূহিতাকে ঘোড়ার পিঠে তুলে নিয়ে পালাতে থাকে। তখন মুণিরাম ঋষি যশোর রাজ্যের রাজা সীতারাম এর কোর্টে নালিশ জানায় এবং সাথে সাথে রাজ্যর নিরাপত্তা প্রহরী সৈন্যদল জলকর ও রূহিতাকে ধাওয়া করে। রূহিতা ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে এলামেলো দৌড়াতে থাকে। আর জলকরকে ধরে ফেলে আজকের জলকর গ্রামে এসে। যার নামে জলকর গ্রামের নামকরন। তারপর রূহিতা ও জলকর রাজা সীতারামের হেফাজতে বন্দি হয়। প্রেমের কাহিনী শুনে রাজা সীতারাম তাদের বিয়ে দিয়ে জমিদার প্রেমত্বকরকে বার্তা পাঠালে তীব্র ক্রোধে জমিদার জলকরকে ত্যাজ্য করে তার উত্তরসুরী থেকে বঞ্চিত করেন। তখন রূহিতা ও জলকর দু’জন অজানা পথে চলে যান যার খোঁজ আর কোনদিন মেলেনি। এদিকে মুণিরাম ঋষি সব হারিয়ে ধ্যানে মননে ভগবানের সান্নিধ্য লাভে নিজেকে সমর্পণ করেন। ক্রমে তিনি ধর্ম পালন আর জ্ঞান অন্বেষণের ভিতর দিয়ে সামাজিক হয়ে ওঠেন। মানুষের সুখে দু:খে একাত্ব হয়ে যান। এই বৃহৎ অঞ্চলের সর্ব শ্রেণীর মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি এই মন্দিরেই জীবন পার করেন। ১৭২৮ সালে এই মহান প্রজ্ঞা সাধক মুণিরাম ঋষির মৃত্যু হলে এই অঞ্চলে শোকের ছাঁয়া নেমে আসে। মানুষের ভিতরের ভালোবাসার বহির্প্রকাশে আস্তে আস্তে এর নাম হয়ে যায় মুণিরামপুর। পরে মণিরামপুর। পরবর্তী সময়ে ১৯১৭ সালে ১৫ জুলাই ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় মণিরামপুর থানা। ঐ সালের ২১ সেপ্টেম্বর গ্যাজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার পর ১৯১৮ সালের ১’ জানুয়ারী থেকে মণিরামপুর থানার কার্যক্রম চালু হয়। ১৯৮৩ সালের ১৫ এপ্রিল উপজেলায় রূপান্তর হয়। বর্তমানে ১৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে আমাদের প্রাণের ঐতিহ্যবাহী মণিরামপুর।।  ★★সংগৃহীত★★ 

Monday, January 30, 2017

মনিরামপুর প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন★ সভাপতি লিটন, সম্পাদক মোতাহার
মনিরামপুর কণ্ঠ ডেক্স।।

মণিরামপুর প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার সকাল ১০ টা হতে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে মনিরামপুর পাবলিক লাইব্রেরী হল রুমে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসক্লাবের ৫২ জন ভোটারের মধ্যে ৫১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ১৭টি পদের বিপরীতে ২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। নির্বাচনে ভোটারদের গোপন ভোটে সভাপতি পদে ফারুক আহম্মেদ লিটন (দৈনিক সমাজের কাগজ), সহ-সভাপতি পদে নুরুল ইসলাম খোকন (দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ), এমএ মতিন (দৈনিক নয়াদিগন্ত/স্পন্দন), অর্থ সম্পাদক পদে ডাঃ মিজানুর রহমান (দৈনিক আলোকিত সংবাদ), দপ্তর সম্পাদক পদে জাহাঙ্গীর আলম (দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন), ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে হারুন-অর-রশিদ সেলিম (দৈনিক ভোরের দর্পন/ প্রজন্মের ভাবনা),তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পদে শফিয়ার রহমান (দৈনিক সত্যপাঠ), প্রচার সম্পাদক পদে হারুন অর-রশীদ (দৈনিক নওয়াপাড়া), নির্বাহী সদস্য পদে অধ্যাপক আব্বাস উদ্দীন (দৈনিক ভোরের ডাক/ প্রবাহ), অধ্যাপক হোসাইন নজরুল হক (দৈনিক আমার সময়), উৎপল বিশ্বাস (দৈনিক গ্রামের কাগজ), আসাদুজ্জামান রয়েল (দৈনিক দিনকাল/নওয়াপাড়া) ও মাস্টার আনিছুর রহমান (দৈনিক পূর্বাঞ্চল/যশোর) নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচন পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাচন অফিসার সৈয়দ আল এমরান ও উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন। এর আগে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হন সাধারণ সম্পাদক পদে মোতাহার হোসেন (দৈনিক যুগান্তর/ সমাজের কথা), যুগ্ম সম্পাদক পদে জিএম ফারুক আলম (দৈনিক সকালের খবর/সত্যপাঠ), প্রভাষক নুরুল হক (দৈনিক ভোরের কাগজ/স্পন্দন) ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে এসএম সিদ্দিক (দৈনিক সময়ের খবর)।
এদিকে প্রেসক্লাবের নব-নির্বাচিতদের অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু, পৌর মেয়র কাজী মাহমুদুল হাসান, যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ, জেলা আ’লীগের সদস্য প্রভাষ,,ক ফারুক হোসেন, জেলা পরিষদের সদস্য শহীদুল ইসলাম মিলন, গৌতম চক্রবর্তী, এসএম ফারুক হুসাইন, আইনজীবি সমিতির নেতা এ্যাড. বশির আহম্মেদ খান, প্যানেল মেয়র-১ কামরুজ্জামান, মনিরামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মুরাদুজ্জামান মুরাদ ও পাবলিক লাইব্রেরীর নেতৃবৃন্দ।

Sunday, January 29, 2017

মনিরামপুর প্রেসক্লাবের নির্বচন আজ

মণিরামপুর কণ্ঠ ডেক্স।।

স্থানীয় নির্বাচন কমিশনের সকল প্রস্তুতির মধ্যদিয়ে আজ সোমবার মণিরামপুর প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলবে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিরতীহীন ভাবে মণিরামপুর পাবলিক লাইব্রেরীর হলরুমে এ ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী তফশীল অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ আল এমরান। এ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক দুইজন ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে কোন প্রার্থী না থাকায় সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক জি,এম ফারুক আলম ও নূরুল হক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে এস,এম সিদ্দিক আজ ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণায় নির্বাচিত হবেন। সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র ক্রয় করেন ৪ জন। তাদের মধ্যে এস,এম মজনুর রহমান ও শাহিনুর রহমান পান্না প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন এবং পরে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের সময় পার করিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সভাপতির পদ থেকে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ান এ,কে,এম নিছার উদ্দীন খান আজম। ফলে সভাপতি পদে প্রার্থী হিসেবে একমাত্র বহাল রয়েছেন ফারুক আহমেদ লিটন। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, সভাপতি প্রার্থীর পদ থেকে প্রত্যাহারের বৈধতা পেয়েছেন এস,এম মজনুর রহমান ও শাহিনুর রহমান পান্না। কিন্তু প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কোন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালেও আইন ও সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি নির্বাচনে প্রার্থী বহাল রয়েছেন। অন্যান্য পদে সহ-সভাপতি তিন জন, দপ্তর সম্পাদক দুই জন, অর্থ সম্পাদক দুই জন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক দুই জন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক দুই জন, প্রচার সম্পাদক দুই জন, এবং কার্য নির্বাহী সদস্য পদে সাত জন প্রার্থী হিসেবে প্রথম থেকেই নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।

Thursday, January 26, 2017

মনিরামপুরে সিটিপ্লাজা ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন পৌর মেয়র কাজী মাহমুদুল হাসান
মণিরামপুর কণ্ঠ ডেক্স।।

যশোরের মনিরামপুর কলেজে বৃহস্পতিবার আট দলের অংশ গ্রহনে সিটিপ্লাজা ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে মনিরামপুর ক্রিকেট একাডেমি ছয় ইউকেটে কলারোয়া ক্রিকেট একাডেমিকে পরাজিত করে জয়ী হয়েছে।
মনিরামপুর ক্রিকেট একাডেমির আয়োজনে এবং সিটিপ্লাজার অর্থায়নে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মনিরামপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র কাজী মাহমুদুল হাসান। সহকারি অধ্যাপক উত্তম চন্দ্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মনিরামপুর কলেজের অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম ফারকী, সিটিপ্লাজার চেয়ারম্যান এস.এম.ইয়াকুব আলী, দৈনিক গ্রামের কাগজের সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন। উদ্বোধনী দিনে মনিরামপুর ক্রিকেট একাডেমি বনাম কলারোয়া ক্রিকেট একাডেমি অংশ নেয়। প্রথম ব্যাট করে কলারোয়া ক্রিকেট একাডেমি আট ইউকেটে ১৩০ রান অর্জন করে। অপরদিকে মনিরামপুর ক্রিকেট একাডেমি চার ইউকেটে ১৩৪ রান অর্জন করে।
যশোরে পিকনিকের বাস দূর্ঘটনায় নিহত ৪, আহত-২০
মণিরামপুর কণ্ঠ ডেক্স।।

পিকনিকে যাওয়ার সময় যশোরের চৌগাছার বর্ণি রামকৃষ্ণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি স্কুল বাস উল্টে এক শিক্ষক ও দুই ছাত্রীসহ ৪ জন নিহত ও কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে যশোরের চৌগাছা-পুড়াপাড়া সড়কের দানবাক্স নামকস্থানে এ ঘটনা ঘটে। চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম মশিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলো- বর্ণি রামকৃষ্ণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া ও একই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী বৃষ্টি ওরফে সাথী ও গাড়ির হেলপার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মিলন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহতদের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, রাত সাড়ে ৯টার দিকে চৌগাছার বর্ণি রামকৃষ্ণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দিনাজপুরের স্বপ্নপুরে পিকনিকে যাচ্ছিল। ছেলে ও মেয়েদের দুটি বাসে প্রায় একশ যাত্রী ছিল। মেয়েদের বহনকারী (ময়মনসিংহ ব০৫-০০১০) বাসটি পুড়াপাড়া সড়কের খড়িঞ্চা এলাকার দানবাক্স নামকস্থানে পৌঁছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে তালগাছের সাথে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান গাড়ির হেলপার মিলন, শিক্ষার্থী সাথী ও সুমাইয়া।

এদিকে স্থানীয় সূত্রগুলো চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেও যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদ মোহাম্মদ আবু সরোয়ার সাংবাদিকদের  জানিয়েছেন, পিকনিকের বাস দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত ও আরও ২০ জন আহত হয়েছেন।

যশোর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পরিমল কুমার জানান, খবর পেয়ে যশোর ও কোটচাঁদপুর স্টেশনের ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেছে। বেশ কয়েকজন মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে এখনও হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত হতে পারিনি।

Tuesday, January 24, 2017

মণিরামপুর প্রেসক্লাব নির্বাচন ★সাধারন সম্পাদকপদে মোতাহার,যুগ্ম সাধারন সস্পাদক পদে ফারুক ও নুরুল হক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সিদ্দিক বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন
মণিরামপুর কণ্ঠ ডেক্স।।

মণিরামপুর প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ২০১৭’র ১৭ পদের মধ্যে ৩টি পদে কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ৪ জন নির্বাচিত হতে চলেছেন। এরমধ্যে সাধারন সম্পাদক পদে মোতাহার হোসেন, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক পদে জিএম ফারুক আলম, প্রভাষক নুরুল হক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে এসএম সিদ্দিক নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। অন্য ১৩ টি পদের বিপরীতে ২৭ জন মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন। রবিবার ছিল মনোনয়ন সংগ্রহ ও জমাদানের শেষ দিন। এরমধ্যে সভাপতি পদে এসএম মজনুর রহমান, ফারুক আহম্মে লিটন, একেএম নিছার উদ্দীন খান আজম ,শাহিনুর রহমান পান্না, সহসভাপতি পদে এমএ মতিন, মোঃ মনিরুজ্জামান, অধ্যাপক নুরুল ইসলাম খোকন, অর্থ সম্পাদক পদে ডাঃ মিজানুর রহমান, তাজ উদ্দীন আহম্মেদ, দপ্তর সম্পাদক পদে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, অশোক কুমার বিশ্বাস, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মোঃ মনোয়ার উদ্দীন আহম্মেদ, হারুণ-অর-রশিদ সেলিম, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পদে মোঃ শফিয়ার রহমান, উজ্জ্বল কুমার রায়, প্রচার সম্পাদক পদে মোঃ আলিমুন হোসেন, মোঃ হারুন-অর-রশীদ, নির্বাহী সদস্য পদে রাহাত আলী, আসাদুজ্জামান রয়েল, অধ্যাপক হোসাইন নজরুল হক, মোঃ জয়নুল আবেদীন, উৎপল বিশ্বাস, মাস্টার আনিছুর রহমান, অধ্যাপক আব্বাস উদ্দীন, মোঃ রবিউল ইসলাম। উল্লেখ্য, ২৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাই ও ২৫ জানুয়ারি প্রত্যাহারের শেষ দিন। আগামী ৩০ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

Saturday, January 7, 2017

মনিরামপুরে ছাত্রলীগের ৬৯ তম প্রতিষ্টা বার্ষিকী উৎযাপন
মণিরামপুর কণ্ঠ ডেক্স।।


বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ( ৪ঠা জানুয়ারি ) প্রতিষ্টা বার্ষিকী । গৌবর,ঐতিহ্য ,সংগ্রাম ও সাফল্যের ৬৯ বছরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ,মনিরামপুর উপজেলা শাখা কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মনিরামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মোঃ মুরাদুজ্জামান মুরাদ । পরিচালনা করেন মনিরামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ ফজলুর রহমান, প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মনিরামপুর পৌরসভার সম্মানিত মেয়র আলহাজ্ব অধ্যক্ষ কাজী মাহমুদুল হাসান, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ও যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য প্রভাষক ফারুক হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রনেতা ও কাউন্সিলার গোপাল মল্লিক,উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মোঃ মনিরুজ্জামান মিল্টন, যশোর জেলা ছাত্রলীগের সদস্য মোঃ মফিজুর রহমান আকাশ, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ ফরহাদ হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক বাপ্পী কুন্ডু, মোঃ মামুনুর রশিদ জুয়েল, আতিকুর রহমান আতিক,অচিন্ত্য জনি, অভিজিৎ দত্ত,মোঃ হাবিবুর রহমান দ্বীপ, মোঃ ইসরাফিল হোসেন, হেলাল, বুলবুল, ওলিয়ার, সোহাগ, শরিফ,নাজমুল, জাকির, সাঈদ, সুমন, নয়ন, বাপ্পী, লিটন,হাদিউজ্জামান,রাজু আহমেদ, সুদ্বিপ সিংহ, আতিয়ার ,রায়হান ,মুরাদ, আসাদ সহবিভিন্ন নেতৃবৃন্দ ।

Monday, December 12, 2016

যেভাবে জঙ্গি হয়ে ওঠে মণিরামপুরের নাজিম ওরফে ‍নকশা নাজিম

মণিরামপুর কণ্ঠ ডেক্স।।

চট্টগ্রামে আটক পাঁচ জঙ্গির মধ্যে যশোরের মণিরামপুরের নাজিম উদ্দীন আল আজাদ ওরফে নকশা নাজিম ছোট বেলা থেকেই ছিলো অনেকটা ডানপীটে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া নাজিম খুব অল্প সময়ের মধ্যে ধর্মীয় অনুশানের প্রতি দূর্বল হয়ে পড়ে। নাজিমের পিতা উপজেলার ভরতপুর গ্রামের হাসান গাজী ছিলেন স্থানীয় জনতা ব্যাংকের নাইটগার্ড। তার ১ মেয়ে আর ২ ছেলের মধ্যে নাজিম মেঝ। ভাই বোনের মধ্যে সবার বড় বোন বিবাহিত। ভাইদের মধ্যে নাজিম বড়। অপর ছোট ভাই আজিম ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালায়। ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত বাজারে উগ্রতার সাথে চলাফেরা করা ছেলে নাজিম হঠাৎ করেই ধর্মীয় অনুশাসনে বন্দি হয়ে পড়ে। বন্ধু হাসান সমীর (বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী), মেঝবাহ উদ্দীন চন্টু ওরফে চন্টু মেম্বার (ক্রসফায়ারে নিহত), চঞ্চল (সৌদি থেকে ফিরে এসে মানষিক ভারসাম্যহীন) ও ঢাকায় যার বাসার উদ্দেশ্যে বাড়ি হতে বের হয়েছিলো সেই মাহফুজ আনাম অনেকটা খেয়ালীপনায় মধ্যদিয়ে স্থানীয় এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারী বিদ্যালয়ের শিক্ষকের সহচার্যে ১৯৯২ সালে এইচএসসি পরীক্ষার পর অবকাশ সময়ে বন্ধুদের সাথে চলে যায় তাবলীগ জামায়াতে। সেখান থেকে ফিরে এসে কিছুদিন লম্বা দাড়ি, টুপি-পাঞ্জাবী পরিধান করে তারা। কিছুদিন পার না হতেই আমেরিকা প্রবাসী হাসান সমীর ও চঞ্চল দাড়ি-টুপি বাদ দিয়ে পূর্বের পরিবেশে ফিরে যায়। কিন্তু ফিরতে পারেনি নাজিম, চন্টু ও মাহফুজ। এভাবেই চলতে থাকে কয়েক বছর। সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালে আফগানিস্থানে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে বাংলাদেশ হতে যে ক’জন জেহাদী আল-কায়দার তালেবান যোদ্ধা হিসেবে প্রশিক্ষণ নিতে আফগানিস্থান গিয়েছিলো নাজিম তাদের মধ্যে অন্যতম। সূত্র আরো জানায়, তিন চিল্লার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়ে কয়েকমাস নিরুদ্দেশ হয় নাজিম। এর পর মণিরামপুর ফিরে এসে হরকাতুল জিহাদের (হুজি) মিছিলে নেতৃত্ব দিয়ে বেশ আলোচনায় আসে সে। এরপর পৌরশহরে আল-এখওয়ান লাইব্রেরী নামে একটি বুকস্টল দিয়ে শুরু করে ব্যবসা। এরইমধ্যে ১৯৯৭ সালে জালঝাড়া গ্রামের নাজমা খাতুন নামের এক মেয়েকে বিয়ে করে। বিয়ের কিছুদিন পর বইয়ের ব্যবসা বাদ দিয়ে শুরু করে পাঞ্চাবী তৈরীর কারখানা। নাম দেয় নকশা পাঞ্জাবী হাউজ। মূলত: তখন থেকেই সে মণিরামপুরে “নকশা নাজিম” নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। বছর দু’য়েক পাঞ্জাবী তৈরীর কাজ করে সে ব্যবসাটিও বাদ দেয়। এর পরপরই শুরু করে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ডিজাইন ও কম্পোজের ব্যবসা। এব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির নামও দেয় নকশা কম্পিউটার। ইতিমধ্যে নাজিম-নাজমা দম্পতির ঘরে আসে তুবা ও তৈয়েবা নামের দুই কণ্যা সন্তান। অতি অল্প সময়ে উপজেলার গন্ডি ছাড়িয়ে ব্যপক পরিচিত হয়ে ওঠে নকশা কম্পিউটার। মূলত: নকশা কম্পিউটারে বসেই ইন্টানেটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠে নাজিমের। ২০১০ সালের শেষের দিকে জমজমাট ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান নকশা কম্পিউটার উপজেলা যুবদল সভাপতি আসাদুজ্জামান মিন্টুর নিকট বিক্রি করে দিয়ে ঢাকায় চলে যায় সে। হঠাৎ একদিন দাড়ি কেটে ক্লিনসেভ করে, টুপি ছেড়ে জিন্স প্যান্ট আর গেঞ্চি পরে মণিরামপুরে আসে নাজিম। জানায়, ঢাকায় একটি কোম্পানীতে চাকরি নিয়েছে। কিছুদিন পর চলে যায় মালেয়শিয়া। প্রায় বছর তিনেক পর আবারো ফিরে আসে দেশে। দেশে এসে বড় মেয়ে তুবাকে বিয়ে দেয় খানপুরের এক ছেলের সাথে। এবার ঢাকার একটি হজ্জ্ব এজেন্সিতে চাকরি নেয় সে। চাকরি করাকালীন সময়ে ঢাকায় বসবাসরত বন্ধু মাহফুজের বাসায় অবস্থান করতো। সেখানে মাত্র মাস চারেক চাকরি করে সেটা ছেড়ে দিয়ে বন্ধু মাহফুজের বাসায় অবস্থান করতে থাকে। সেখানে থাকা অবস্থায় নিখোঁজ হয় নাজিম। নিঁখোজের পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিক সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করা হয়, গত ২৫ মে সকালে ব্যবসায়ীক কাজে গাউসুল আযম নামের এক বন্ধুর ফোন পেয়ে বন্ধু মাহফুজের বাসা থেকে বের হয়ে নিঁখোজ হয় নাজিম। এব্যাপারে রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি ডায়েরী করে তার স্ত্রী। গত মাস দু’য়েক আগে যশোর জেলা পুলিশ যশোরের সেরা পাঁচ জঙ্গি তালিকা প্রকাশ করে। তাতে নাজিমের ছবি প্রকাশ করা হয়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রামে র‌্যাবের অভিযানে আটক পাঁচ জঙ্গির মধ্যে নাজিমকে দেখা গেলে পৌরশহরে সেটি টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়।